Read more
গ্রীষ্ম প্রধান দেশ বাংলাদেশ । এ দেশে আম হলো ফলের রাজা । আকার, বাহার আর ঘ্রাণে তার জুড়ি মেলা ভার । পুষ্টিতেও ভরপুর। বৃহত্তর রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও রংপুর আমের জন্য বিখ্যাত। ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ফজলি, হিমসাগর, মোহনভোগ, গোলাপ খাস, সূর্যপুরি, মিসরি ভোগ, আশ্বিনাসহ প্রায় কয়েক শ’ জাতের আম উৎপাদন হয় এসব অঞ্চলে।
দেশের সব প্রান্তের মানুষই মধুমাস জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়-শ্রাবণে রাজশাহী অঞ্চলের আমের জন্য অপেক্ষা করে। পরে আম নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এক ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ কর্মসূচিতে আম্রপালি জাতটিকে দেশের সব প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে শুধু উত্তরাঞ্চল নয়, এখন বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগাম এবং বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতেও এ জাতের আম প্রচুর উৎপাদন হচ্ছে। বলা যায় এখন দেশের ৪০-৪৫ ভাগ আমই আম্রপালি জাতের।
বর্তমানে আম বাগান চাষীগণ আম গাছের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত থাকে আমের মৌসুম। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে জুনের মাঝামাঝি সময়ে পাকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বৃন্দাবনি, গুলাবখাশ, রানীপছন্দ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাত ও বারি-জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাকে ফজলি, আম্রপালি, মোহনভোগ, আশ্বিনা, গৌড়মতি, বারি-৩, বারি-৪, ইত্যাদি।
গোবিন্দভোগ আম কিনতে চাইলে ১৫ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত কিনবেন। গোপালভোগ ২৫ মে থেকে ১০ জুন, ক্ষীরসাপাতি ৭ জুন থেকে ৩০ জুন, লক্ষণভোগ ১৫ জুন থেকে এক মাস পর্যন্ত, হাঁড়িভাঙ্গা ২০ জুন থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ, ল্যাংড়া ১৫ জুন থেকে এক মাস পর্যন্ত, আম্রপলি জুনের শেষের দিক থেকে শুরু করে এক মাস পর্যন্ত, ফজলি ৫ জুলাই থেকে থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত, মোহনভোগ জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করে মাসজুড়ে, আশ্বিনা ২০ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কিনবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, কয়েক বছর ধরে আরও কিছু জাতের আমের প্রতি আগ্রহী হয়েছেন চাষিরা। এর মধ্যে রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা, ঠাকুরগাঁওয়ের বান্দিগুড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গৌরমতি, বারি উদ্ভাবিত বারি-৪, বাউ উদ্ভাবিত বাউ-১৪ (ব্যানানা ম্যাংগো), রাংগুয়াই (বার্মা), পলিমার (ভারত), নান ডকমাই (থাই) অন্যতম।


0 Reviews